শনিবার, ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০৪:০৩ অপরাহ্ন
শিরোনামঃ
বগুড়ায় ওয়ার্কার্স পার্টির মাস্ক ও বিতরণ বগুড়ায় বিএনপি কার্যালয়ে করোনা আক্রান্ত রোগীর পরিবারের মাঝে বিনামূল্যে ঔষধ বিতরণ বগুড়ায় মাটিডালী ফুটবল প্রিমিয়ার লীগ এর উদ্বোধন বগুড়া সদর উপজেলা শাখারিয়া জামে মসজিদের ছাদ ঢালাই কাজের উদ্বোধন সিংড়ায় জেএসএস নবগঠিত কমিটির পরিচিতি ও মতবিনিময় সভা বগুড়ায় মানববন্ধন অনুষ্ঠিত মোশারফ এমপির সঙ্গে নবনির্বাচিত এম-ট্যাব বগুড়ার আঞ্চলিক কমিটির নেতৃবৃন্দের সৌজন্যে সাক্ষাৎ মহাস্থানে ভূয়া কাবিনে বিবাহ, ৩বছর স্বামী স্ত্রী পরিচয়ে ধর্ষণের অভিযোগে কোর্টে মামলা দায়ের নন্দীগ্রামে হাঁস নিয়ে মারামারির ঘটনায় গুরুতর আহত ৪ সিংড়ায় সমাজসেবায় এ্যাওয়ার্ড পেলেন রুবেল হোসেন

করোনা রোগীকে ৩শত টাকার পরিবর্তে দেওয়া হয় ৬০-৭০ টাকার খাবার! ——

সাংবাদিকের নাম:
  • Update Time : রবিবার, ৪ জুলাই, ২০২১
  • ২ Time View
বটিয়াঘাটা,খুলনা.প্রতিনিধিঃ মোঃ আজিজুল ইসলাম

একজন করোনা রোগীর প্রতিদিনের খাবারের জন্য সরকারি বরাদ্দ ৩ শত টাকা করে থাকলেও খুলনা হাসপাতালে গুলোতে তিন বেলায় মিলে তা দেয়া হচ্ছে ৬০-৭০ টাকার খাবার। এর বাহিরে বিভিন্ন ধরনের ফলমূল দেওয়ার কথা থাকলেও তা পাচ্ছেন না কেউ। বাড়ির খাবারের প্রতি রোগীদের নির্ভরশীল হয়ে পড়ছে। ফলে খাবার সরবরাহে করোনা ইউনিটে দর্শনার্থীর আনাগোনায় সংক্রমণ ছড়ানোর ঝুঁকিও বাড়ছে।

খুলনা হাসপাতালে খোঁজ নিয়ে দেখেছে, বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন করোনা রোগী আছে অনেক জন। তাদেরকে সকালের নাস্তায় দেওয়া হচ্ছে পাঁচ টাকা দামের একটা পাউরুটি, আট টাকা দামের একটা ডিম ও চার-পাঁচ টাকা দামের একটা কলা। দুপুরের খাবারে ভাতের সঙ্গে দেওয়া হচ্ছে ডাল, একটি ডিম অথবা এক টুকরো মাছ এবং রাতের খাবারেও দেয়া হচ্ছে ভাতের সঙ্গে এক টুকরো মাছ অথবা একটি ডিম। বর্তমান বাজারদরে তিন বেলার খাবারের দাম হিসাব করলে দাঁড়ায় ৬০-৭০ টাকার বেশি হবেনা। রোগীদের খাবারের সঙ্গে নিয়মিত ফলমূল দেওয়ার কথা থাকলেও সেগুলো দেওয়া হচ্ছে না।
ফলমূল পাবার বিষয়ে ঐ হাসপাতালের করোনা আইসোলেশন ইউনিটে চিকিৎসা নেওয়া রোগীরা বলছেন, ‘১০ দিন হাসপাতালে থাকলেও এরমধ্যে শুধু একদিন একটি মাল্টা পেয়েছিলাম। হাসপাতালের দেওয়া খাবার আমি খেতে পারিনি।’
তারা বলেন, ‘সকালে নাস্তা হিসেবে একটা কলা দিয়েছিল সেটিও খাবার উপযোগী ছিল না। আর তরকারি দেখলে খাবার ইচ্ছা নষ্ট হয়ে যেত।’ তারা আরও বলেন, ‘সরকারি বরাদ্দের টাকায় নিয়ম অনুযায়ী করোনা রোগীকে নিয়মিত ফলমূল ও হরলিক্স দেওয়ার কথা কিন্তু হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রোগীরা তা পাচ্ছেন না।’
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক খুলনা হাসপাতালে করোনা আইসোলেশন ইউনিটে চিকিৎসাধীন এক রোগী জানান, তিনি করোনা শনাক্ত হওয়ার পর কয়েকদিন ধরে হাসপাতোলের করোনা আইসোলেশন ইউনিটে চিকিৎসাধীন রয়েছেন কিন্তু একদিনের জন্যেও হাসপাতালের দেওয়া খাবার খেতে পারেননি। ভাত ঠিকমতো সেদ্ধ হয় না। সকালে নাস্তা হিসেবে দেওয়া পাউরটিও খাবার মতো না। এছাড়া কোনোদিন ফলমূল পাননি। বাধ্য হয়েই বাড়ি থেকে খাবার এনে খেতে হচ্ছে।
হাসপাতালে চিকিসাধীন এক করোনা রোগীর স্বজন মোঃ আকতার হোসেন বলেন, ‘করোনা রোগীদের দেওয়া খাবার খুবই নিম্নমানের। রোগী হাসপাতালের দেওয়া খাবার খেতে পারেন না বলে বাড়ি থেকে খাবার পাঠাতে হয়।’
খুলনা হাসপাতালের বাবুর্চি  বলেন, ‘ খাদ্য সরবরাহকারী হাসপাতালে যেভাবে খাবার সরবরাহ করছেন সেভাবে রান্না করে করোনা রোগীদের দেওয়া হচ্ছে। অনেক রোগী হাসপাতালের খাবার খেতে আগ্রহ প্রকাশ করেন না, তাই তাদের খাবার দেওয়া হয় না।’
এ বিষয়ে হাসপাতালের খাদ্য সরবরাহকারী ঠিকাদার বলেন, ‘চুক্তি অনুযায়ী সব ধরনের খাবার, ফলমূল ও হরলিক্স সরবরাহ করছি। করোনা রোগীকে তালিকা অনুযায়ী খাদ্য বিতরণ করার দায়িত্ব হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের।’
খুলনা হাসপাতালের মেডিকেল অফিসার এ বিষয়ে বলেন, ‘তালিকা অনুযায়ী চিকিৎসাধীন করোনা রোগীদের সব ধরনের খাদ্য পাওয়ার কথা। খোঁজ নিয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
খুলনা হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডাক্তার এ বলেন, ‘ঠিকাদার যেভাবে খাদ্য সরবরাহ করছেন সেভাবেই করোনা রোগীকে খাবার বিতরণ করা হচ্ছে। অনেক সময় ঠিকাদারের খাদ্য সরবরাহে সমস্যা হলে খাবারের মান খারাপ হতে পারে। তিনি বিষয়টি খতিয়ে দেখবেন বলে জানান।

এই পোস্টটি আপনার সামাজিক মিডিয়াতে শেয়ার করুন.

Leave a Reply

More News Of This Category
logo

এই পত্রিকার সকল সংবাদ, ছবি ও ভিডিও স্বত্ত্ব সংরক্ষিত ©২০19 boguracity.com