Saturday , 9 October 2021, [bangla_date], [bangla_time]
  • অন্যান্য
banner
আজকের সর্বশেষ সবখবর

নন্দীগ্রামে সাংবাদিক বিপুল নিহতের পাঁচ বছর পর হত্যা মামলা

Admin
October 9, 2021 3:37 pm
Link Copied!

সড়ক দুর্ঘটনায় মারা যান, বলছেন সিআইডির এএসপি। লাশ উত্তোলনের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত

বগুড়া ব্যুরো :
বগুড়ার নন্দীগ্রামে সড়ক দুর্ঘটনায় সাংবাদিক শফিউল আলম বিপুল নিহতের পাঁচ বছর পর হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে। বিপুলের ঘনিষ্ঠ সহকর্মী আমিনুল ইসলাম জুয়েলসহ ৮জনকে আসামী করে বগুড়ার সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলা দায়ের করেন রফিকুল ইসলাম। তিনি সাংবাদিক বিপুলের ছোট ভাই ও উপজেলার বর্ষণ গ্রামের মোকছেদ আলীর ছেলে। আদালতের আদেশে গত ২৯ সেপ্টেম্বর নন্দীগ্রাম থানার মামলা নং ১৮ রেকর্ড করা হয়। তবে দুর্ঘটনাস্থল ও গন্তব্য বাদ রেখে মামলার অভিযোগপত্রে ঘটনাস্থল ও সময় পরিবর্তন করা হয়েছে।

তথ্যমতে, ২০১৬ সালের ১৮ জুন সন্ধ্যায় উপজেলার ভাটগ্রাম ইউনিয়নের বর্ষণ গ্রামের নিজ বাড়িতে ফেরার পথে কালিশ-বীজরুল রাস্তার পুনাইল সীমানায় গাছের সঙ্গে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত হন সাংবাদিক বিপুল। সেসময় প্রত্যক্ষদর্শী ও পরিববারের সদস্যরা জানান, রাস্তায় চলাচলরত যান চালক ও যাত্রীরা আহত বিপুলকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে। সেখানে অবস্থার অবনতি ঘটলে তাকে বগুড়ার শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। কর্তব্যরত চিকিৎসক বিপুলকে মৃত ঘোষণা করেন। সড়ক দুর্ঘটনায় সাংবাদিক বিপুল নিহতের সংবাদ জাতীয় ও স্থানীয় গণমাধ্যমে ব্যাপকভাবে প্রকাশিত হয়। বিপুল দৈনিক ইত্তেফাকের সংবাদদাতা ছিলেন। দুর্ঘটনার ঘটনাস্থল পরিদর্শন ও বিপুলের লাশ দেখতে বাড়িতে গিয়েছিলেন তৎকালীন সংসদ সদস্য রেজাউল করিম তানসেন, উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোসা. শরীফুন্নেছা ও থানার তৎকালীন ওসি হাসান শামীম ইকবাল। সেসময় পরিবারের পক্ষ থেকে সন্দেহ বা অভিযোগ না থাকায় ময়নাতদন্ত এবং ইউডি মামলা ছাড়াই সাংবাদিক বিপুলের দাফন সম্পন্ন করা হয়। সড়ক দুর্ঘটনা উল্লেখ করে মৃত্যু সনদ নিবন্ধন করেছে ভাটগ্রাম ইউনিয়ন পরিষদ।

নিহতের পাঁচ বছর পর পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ এনে বগুড়ার আদালতে ২০২০ সালের ৬ ডিসেম্বর মামলা দায়ের করেন বিপুলের ছোটভাই রফিকুল ইসলাম। আদালতের আদেশে গত ২৯ সেম্পেম্বর মামলাটি থানায় রেকর্ড করা হয়েছে। সাংবাদিক বিপুলের ঘনিষ্ঠ সহকর্মী আমিনুল ইসলাম জুয়েল মামলার প্রধান আসামী। সে বর্ষণ গ্রামের মোজাম্মেল হকের ছেলে। অন্য আসামীরা হলেন- মান্নান, মোজাম্মেল, মজিদ, মানিক, খোকন, সাইদুল ও আবু সাইদ।

মামলার বিবরণে বলা হয়, আসামীদের অপরাধমূলক অবৈধ কর্মকান্ড ও অসামাজিক কার্যকালাপের জন্য নিষেধ করে সাংবাদিক বিপুল। ঘটনার দিন বিকেলে কৌশলে বিপুলের মোটরসাইকেলে উঠেন প্রধান আসামী জুয়েল। নন্দীগ্রাম আসার পথে বরিন্দা পাগরাপাড়া এলাকায় বিপুলকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ এনে মামলা দায়ের করা হয়। মামলার তদন্তভার গ্রহন করেছেন থানার এসআই শাহ সুলতান হুমায়ুন।

এদিকে হত্যা মামলার স্বাক্ষী করায় বিব্রত আরেক সাংবাদিক। নন্দীগ্রাম উপজেলা প্রেসক্লাবের দপ্তর সম্পাদক নজরুল ইসলাম দয়া বলেন, বিতর্কিত করতেই একটি পক্ষের প্ররোচনায় আমাকে মামলার স্বাক্ষী করা হয়েছে। বিপুল সড়ক দুর্ঘটনায় মারা গেছে।

নন্দীগ্রাম থানার তৎকালীন ওসি ও বর্তমানে বগুড়া সিআইডির সহকারি পুলিশ সুপার মো. হাসান শামীম ইকবাল বলেন, সাংবাদিক বিপুলের সঙ্গে আমার ভালো সম্পর্ক ছিল। সে সড়ক দুর্ঘটনায় মারা গেছে। পুনাইল সীমানার কিছুটা দূরে একটি ট্রাক্টর পাশ-কাটাতে গিয়ে রাস্তার পাশে গাছের সঙ্গে দুর্ঘটনাটি ঘটেছিল।

এপ্রসঙ্গে থানার অফিসার ইনচার্জ আবুল কালাম আজাদ বলেন, থানায় মামলা রেকর্ড হয়েছে। সত্য-মিথ্যা মামলার তদন্তে বেড়িয়ে আসবে। সাংবাদিক বিপুলের লাশ উত্তোলনের নির্দেশনা দিয়েছেন বিজ্ঞ আদালত। বিজ্ঞ নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নিযুক্ত হলে যেকোনো দিন লাশ উত্তোলন করা হবে।

এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।